
জাদুকরের মৃত্যু
আমার ছিল বাউল হওয়ার শখ,
আমার ছিল জাদু শেখার কথা,
আমার ছিল ঘুমিয়ে পড়ার মন,
নীল আকাশে জড়িয়ে নকশী কাঁথা
ইন্দ্র: প্রিয় দেবগন আমরা কি উদ্দেশ্যে এখানে একত্র মিলিত হয়েছি তা নিশ্চয় সকলে অবগত আছেন তা সত্ত্বেও দেবর্ষি সংক্ষেপে বলছেন, আপনারা শ্রবণ করুন।
নারদ: নারায়ণ নারায়ণ, প্রথমেই সভাপতি মহাদেবের চরণ যুগলে প্রণতি জানাই তৎসহ কৃষ্ণ, ব্রহ্মা সকল দেবগণের প্রতি রইল আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা। আজ একসপ্তাহ হল স্বর্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান গত হয়েছে। আশা করি সে মাদকতা এখনো প্রত্যেক দেবগণের হৃদয়ে বিরাজমান, তা যাই-হোক আমাদের মিলিত হওয়ার উদ্দেশ্য রাষ্ট্রপতি তথা ইন্দ্রের ইচ্ছা, মর্তের জন্য পুনরায় ধর্মগ্রন্থ রচিত হোক।
কৃষ্ণঃ হঠাৎ এরূপ সিদ্ধান্ত?
ইন্দ্র: রামায়ন মহাভারতের সাথে সংযোগ রক্ষাকারী ধার্মিকের এখন একান্ত অভাব, তাছাড়া বর্তমান ঘটনাবলী সম্বন্ধে তারা অজ্ঞ।
কৃষ্ণ: তা এবার মর্তে কে যাবেন শুনি।
ইন্দ্র: কেন, এবার স্বয়ং দেবর্ষী নারদ যাবেন।
কৃষ্ণ: ওই ভুলটা কিছুতেই করবেন না। চিনতে পারলে থার্ড ডিগ্রী দিয়ে স্বর্গের ঠিকানা বার করবে।
সূর্যদেব: প্রধানমন্ত্রী মহাশয় ঠিক কথাই বলেছেন। আমি তো দু’চোখে দেখছি ১২ঘন্টা। জীবগুলো সুবিধার নয়, অণু থেকে পরমাণু বোমা সব ওদের হাতের মুঠোয়। মানে আনন্দ দিতে গান আর মেরে ফেলতে মেশিনগান সব ওদের আছে।
ইন্দ্র: আপনারা বৃথা ভাবিত হচ্ছেন। নারায়ণ চেষ্টা করলে একাই তো…
কৃষ্ণ : সেটা তখন সম্ভব ছিল, এখন নয়। তখন পৃথিবীটা ঠিক কতোটা জায়গা জুড়ে সে আন্দাজ কারো ছিল না। এখন নর-রা নিরস্ত হয়ে গলা বাড়িয়ে দিলেও কয়েকটা যুগ কেটে যাবে।
ইন্দ্র: শুধু ভীতির সঞ্চার হচ্ছে দেখছি। স্বয়ং যমরাজ দমন ডিপার্টমেন্টে অধিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও…..
যম: আমাকে বৃথাই দোষ দিচ্ছেন প্রভু। আমি তো খাওয়া নেই, স্নান নেই ২৪ঘন্টা মৃত্যু রথ চালিয়েই রেখেছি তা সত্ত্বেও..
ইন্দ্র: কিন্তু ডিপার্টমেন্টটা তো আপনি একাই সামলাচ্ছেন না, আপনাকে সহযোগিতা করার জন্য অগ্নিদেব পবনদেব এরা তো রয়েছেন।
যমঃ দেখুন আমি মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করতেও রাজি আছি তবু এর চেয়ে বেশি কিছু করতে পারবো না।
অগ্নিদেবঃ যমরাজের অভিমান প্রাসঙ্গিক। ধরুন একটা বহুতল বাড়িকে পুড়িয়ে দেবো বলে প্ল্যান করেছি, পবনদেব সহযোগিতা করার পূর্বেই দমকল এসে হাজির। এর মধ্যেই যমরাজ ৫০-৬০ টাকে তুলে নেন আর ২০-২৫ টাকে টানতে টানতে সীমানার কাছাকাছি নিয়ে যান, সেটাই বাহাদুরি।
ইন্দ্র: তাহলে নাগরাজ বাসুকিকে খবর পাঠান, বলুন-পৃথিবীর ভর বহন করার আর দরকার নেই।
কার্ত্তিক: সে খবর আগেই পাঠানো হয়েছিল। তিনি বললেন আমি কি আর সাধে পৃথিবীটাকে তুলে ধরে আছিরে ভাই, পৃথিবীর তলে চাপা পড়ে আছি। চেষ্টা করলে ঘাড় বদলাতে পারি কিন্তু বেরিয়ে আসতে পারি না।
ইন্দ্র: তারপর।
কার্ত্তিক: তারপর আবার কি বলছেন-অমৃতটুকু খেয়েই কেলেঙ্কারি। তা না হলে ভীষ্মের মতো এই শরশয্যা কিছুতেই মেনে নিতেন না।
নারদ: নারায়ণ নারায়ণ, বলছিলাম কি, আমি মর্তে গিয়ে বীনা বাজিয়ে সকলকে পুলকিত করে দেবো আর সেই সুযোগে সহজেই……..
কৃষ্ণঃ ভয় হয় ওদের পাশ্চাত্য সুরে তুমিই না ধেই ধেই করে নৃত্য শুরু করে দাও।
ইন্দ্র: তাহলে উপায়-
কৃষ্ণ: আপনাদের উদাসীনতায় নর-রা আজ গগনস্পর্শী ক্ষমতার অধিকারী আর সংখ্যায় আমাদের লাখগুণ।
সূর্যদেব: প্রভু ঠিক কথাই বলেছেন আমি তো দুচোখে দেখছি ১২ঘন্টা, রাস্তায়, ফুটফুটে দিনের আলোয় বাসে ট্রামে, গলির পাশে গাছের নীচে হাসপাতালে কতো মানুষ যে জন্মাচ্ছে তার কোনো ইয়ত্ত্বা নেই। অবশ্য রাতের ১২ঘন্টা এর চেয়েও ভয়ঙ্কর হতে পারে।
ইন্দ্র: মহাদেব এরূপ সংকট জনক অবস্থায় আপনিও কি
শিব: আমি তো চুপচাপ আছি, এই বৃদ্ধ বয়সে আমাকে কেন টানছো বাপু। আমার বাড়িতে দু ছেলের মধ্যে সম্প্রতি সম্প্রীতি নেই তা নিয়েই আমি জর্জরিত। তবে যুদ্ধ টুদ্ধ হলে ষাঁড়টা পাঠিয়ে দেবো তখন।
নারদ: নারায়ণ নারায়ণ সেকি প্রভু।
শিবঃ তুমি তো সমস্যার গন্ধ পেলেই পুলকিত হয়ে ওঠ।
নারদঃ (আমতা আমতা করে) তা নয় তবু সমাধানের যদি একটি উপায় বার করতে পারি এই আর কি-
দুর্গাঃ আসলে কি জানো ঠাকুরপো, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর তোমার দাদাও তো আজকাল ভিক্ষায় যান না। তাছাড়া স্বর্গের কাজ সেরে ফিরতে কার্তিক সোনার একটু দেরি হয়ে যায়, ফিরে দেখে ভাড়ার শূন্য। আমার বড়ো ছেলে তো একটু লোভী, তা নিয়েই..
শিবঃ থাক না উমা, বাড়ির ক্লেচ্ছা বাইরে বলা ঠিক নয়।
ইন্দ্রঃ থাক। সেই বরং ভালো। আমার মনে হয় প্রিয় দেবগণ মূল বিষয় থেকে কিছুটা সরে এসেছেন, নরদের কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সেটাই ভাবুন। কিন্তু তার আগে দেখা দরকার-এর উন্নতির মূলে কী?
সূর্যঃ নাসা।
কার্ত্তিক: নাসা ছেদন করলেই তো ল্যাটা ঢুকে যায়।
নারদ: নারায়ণ নারায়ণ লক্ষ্মণ যে কেন সূর্পনখার নাসা ছেদন করেছিল তা এতক্ষণে বোঝা গেল।
সূর্যঃ এ নাসা মানে আপনার গোঁফের ওপরের টিকালো নাকটি নয়, এ আমেরিকার বিখ্যাত মহাকাশ সংস্থা।
গণেশ: আমার মাথায় একটা প্ল্যান এসেছে।
দুর্গা: তো চুপ করে আছিস কেন? বল-
গণেশ: সরস্বতীকে বলে ওদের বিদ্যাবুদ্ধির ঘাটতি ঘটিয়ে দেওয়া যায় না?
সরস্বতী: কাচকলা। যারা বইটই পড়ে না তাদের মাথায় বেশি বুদ্ধি; বড়ো বড়ো দার্শনিক আর বৈজ্ঞানিক গুলোই তো ওই দলের।
কৃষ্ণঃ আচ্ছা ধর্মরাজ বছরে পৃথিবী থেকে কতগুলো নর স্বর্গে আসে?
ধর্মরাজ: গড়ে ১০-১২ জন। বছর কুড়ি আগেও এ সংখ্যা সহস্রাধিক ছিল। এ বছরেরটাও বলে দিচ্ছি একটু ধৈর্য্য ধরুন। চিত্র, ফাইলটা খুলে দেখতো বাবা।
চিত্রগুপ্তঃ (পাতা উল্টতো উল্টাতে) হ্যাঁ পাওয়া গেছে। এক, এক….. কই আর তো নেই, হ্যাঁ, এই তো। কিন্তু…….(ভাবতে লাগল)
ধর্মরাজ: কি হল, কিন্তু করছো কেন? খাতা হারিয়ে ফেলেছ নাকি।
চিত্রগুপ্ত: না, তেমন কিছু না। একটা স্বর্গে যাচ্ছে সেটা কনফার্ম আর একটা যাবে কিনা সিওর বলতে পারছি না। হিসাবটা কঠিন, কালকে জানাবো।
ধর্মরাজ: মানে এবছর একটা। তাকে কি স্বর্গে চালান করে দিয়েছে।
চিত্রগুপ্তঃ হ্যাঁ প্রভু, মাস ছয় স্বর্গধাম হয়ে গেছে।
কৃষ্ণ: বেশ। তাকে একবার হাজির করতে পারো, দেখি জীবগুলো কী প্রকার।
ধর্মরাজ: কেন পারবো না। (একটু বিড় বিড় করতেই একজন এসে হাজির)
মানব: ইখেনে আমাকে কে লিয়ে আইল! কোথায় গেলো আম আপেলগু লা-
নারদ: নারায়ণ, নারায়ণ, ওরে মূর্খ প্রণাম কর। চেয়ে দেখ কারা তো সম্মুখে, তা নয় আম-আপেল খুঁজে মরছে।

কৃষ্ণ: আচ্ছা ধর্মরাজ, একে কি কয়েকটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারি?
ধর্মরাজ: কেন নয়, করুন।
কৃষ্ণ: তার আগে আপনি অনুগ্রহ করে বলবেন, কি এর স্বর্গবাসের কারণ?
ধর্মরাজ: ব্যক্তিটি কখনো কারও ক্ষতি করেনি। তাছাড়া কারও কাছ থেকে কোনো দ্রব্য কখনো গ্রহনও করেনি।
কৃষ্ণ: তুমি জীবনে কারো ক্ষতি করোনি?
মানব: আজ্ঞে, একটু জোরে বলুন।
কৃষ্ণঃ (জোরে) তুমি জীবনে কারও ক্ষতি করোনি?
মানবঃ না।
কৃষ্ণ: কেন?
মানব: চোখে কম দেখতম্ বইলে, কানেও শুইনতে পাতইম্ না। এখন তাও-
কৃষ্ণ: কেউ কিছু দিতে চাইলেও নিতে না কেন?
মানব: আজ্ঞে ভয় লাইপ্ত।
কৃষ্ণ: কেন?
মানব: বিশ্বাস কইরতে পারতম নাই, পাছে ঠকায়। সবাই ত আমার মত নয়। কি বল। কতো বাজে বাজে ধান্দাবাজ লোক আছে।
কৃষ্ণ: দেব সংস্পর্শে এখন কেমন বোধ করছো?
মানব: ভালই, আচ্ছা যাঁড়, সিংহ, হাতি এই গুলা তুমাদের পুষা।
কৃষ্ণ: একে এখান থেকে সরান, আমার মাথা ঘুরছে।
(ধর্মরাজ মন্ত্র বলে লোকটাকে পুনরায় স্বর্গে পাঠালেন এবং নরক থেকে ২য় মানবের আবির্ভাব)
২য় মানব: এই তো পাওয়া গেইসে, হালার তিনদিন ঘুমাইতে পারি নাই, অ্যাই অ্যাই গু তাতে আইতেছিস ক্যান? ষাঁড়ে শুতেও দিতেসে নাই।
নারদঃ পরে শুবি হতভাগা, আগে প্রভুর প্রশ্নগুলোর উত্তর দে। পাপী হয়েও তোর জীবন সার্থক।
২য় মানবঃ (শিবকে দেখিয়ে) এ ক্যাডা?
নারদ: ইনি মহাদেব। প্রণাম কর দেখতে পাচ্ছিস না, গলায় সাপ রয়েছে। তবু বলছিস, এ ক্যাডা!
২য় মানব: সাপ! সে তো আমাদেগো পারার কিনু সাপুড়েও গলায় পইরা ঘুরে।
কার্ত্তিক: এই হতভাগা, কি নাম রে তোর?
২য় মানব: ত্রিলোচন পুরোকায়েত।
নারদ: হায় হায় এতো বাবার আর এক নাম নারায়ণ নারায়ণ।
২য় মানব: বাবার কথা মনে পইরা গেইসে বুঝি, বাবা কি কারও চিরকাল থাকে। ছটপটাইতেছিস ক্যান! ঠিক আসে, আমারে বাবা কইস, ক্যামন?
সূর্যদেবঃ (আক্ষেপের সুরে) দেবতাদের যে খিস্তি দেওয়া নিষেধ, নাহলে-
কার্ত্তিক: তা এখানে কেমন বোধ করছিস?
২য় মানবঃ মন্দ লাগতিসে না, খাবার দাবার গুইলা যেন ক্যামন, গোবর ভাজা আর আরশোলা সেদ্দ। তবে এখন স্যুট হইয়া গেসে। হালার কি কয় যেন, বিছুটি সেদ্দ, ওইটা তো আমার অল টাইম ফেভারেট। তবে জায়গাটা বড়ো নোংরা, ঘুমানো যায় না, তবে জাইগা থাকাটা প্যারেকটিস করতিসি। এখন যেখানটাতে আসি, এইটা ভালো ভাবির্তসি। এই খ্যানটাতে রইয়া যামু-
কার্ত্তিক: বিছুটি সেদ্দ সেটাকেও ভালো বলে। আবার জেগে থাকা প্র্যাকটিস করছে। একী জীবরে বাবা! আচ্ছা, আগে কী করতিস রে?
২য় মানব: এইবার বুইঝা গেছি তুমাদেগো সবকটাই পুলিশের লোক ছদ্মবেশ ধইরা আছো।
কার্ত্তিক: ওরে ভণ্ড তা নয়।
২য় মানব: তা হইলে যাত্রার দল সেটাই কও। তবে যাই কও মাইরি গণেশের সাজটা একেবারে পারফেক্ট আর তুমি যেন ক্যাডা, ময়ূর ধনুক..হ মনে পইড়াসে, কার্ত্তিক না। তবে তুমারটা ঠিকঠাক হয় নাই। আচ্ছা, তুমাদেগো পালাটার কি নাম গো?
মহাদেব: আশ্চর্য জীব তো দেবতাদের পর্যন্ত মান্য করেনা, বিশ্বাস করে না।
২য় মানব: বিশ্বাস করুম না ক্যান। তবু আপনাদেগো সাধারণ লাগতিসে।
কার্ত্তিক: আচ্ছা তা কি প্রমাণ চাস্ বল?
২য় মানব: গোলকে পাঠিয়ে দিন তা হইলে বিশ্বাস করুম।
সূর্যদেব: দেখছেন চাতুরি, কেমন শয়তান।
যম: চিত্র, এর কর্মজীবনটা একবার দেখতো বাবা।
চিত্রগুপ্তঃ (খাতা ওল্টিয়ে): স্রোতমান নদীর মতো সুদের ব্যবসা থেকে আফিম, চরস, কিছুই বাদ নেই।
২য় মানব: হুজুর, মইরা যামু। ঘরে পেলা-বিবি আসে, এই যাত্রা ছাইড়া দিন। আজ এক হপ্তা হইয়া গেল রাস্তা ঠিক করতে পারতিসি না। যেদিকেই যাইতেসি, এক হাঁটু নোংরা, কাদা-
যমঃ তবে কেন এলি এখানে?
২য় মানবঃ আসতে চাইনি হুজুর। রাস্তা পার হইতেছিলাম, কোথা থেইকে একটা ভারি লরি আইসা পিছনে ধাক্কা মারলো আর একটা নোংরা মতন বিরাট বিরাট বড়ো গর্তে পইড়া গেলুম।
কৃষ্ণ: তারপর।
২য় মানব: তারপর তো এই মাত্র আপনারাই তুললেন হুজুর।
কৃষ্ণ: এই, একদম হুজুর বলবি না হতচ্ছাড়া।
২য় মানবঃ বেশ। তবে কী কমু?
কৃষ্ণ: প্রভু বলবি।
২য় মানব: তাই কমু, ছাইড়া দিন প্রভু, জেল হইয়া গেলে সংসার ভাইসা যাবে। বড়ো কষ্টে কাটাইতেসে, হুজুর।
কৃষ্ণ: একে নরকে পুনঃ স্থাপন করুন না হলে এই স্বর্গসভা নরকে পরিণত হয়ে যাবে।
যম: বেশ (মন্ত্রবলে নরকে পাঠিয়ে দিলেন)
কৃষ্ণঃ ও, ব্রহ্মা যে কেন এই দ্বিপদ জীবটাকে সৃষ্টি করেছিলেন!
ব্রহ্মা: আমাদের সৃষ্টি আমাদের একদিন অতিক্রম করবে, কি করে বুঝবো বলুন। (মাথায় হাত)
নারদ: নারায়ণ নারায়ণ। একি আদিদেব, আপনি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন যে।
(অপরদিকে ইন্দ্র অ্যা, আ, ও-বেশ কয়েকটি ঢেকুর তুলে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন)
সূর্যদেবঃ সর্বনাশ, সর্বনাশ। ইন্দ্রকে ধরুন।
শিব: কানের পাশে কলকেটা গোঁজা ছিল কখন সেটাও মেরে নিয়েছে হতচ্ছাড়াটা। বিয়ের আগে ভালোবেসে পার্বতী ওটা দিয়েছিল।
নারদ: আহত অনাহতদের নিয়ে আজকের সভা এখানেই শেষ। দয়া করে দেবতারা এদিকে আসুন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবারের মতো অপ্সরারা নৃত্যগীত করবেন। নারায়ণ, নারায়ণ।

আমার ছিল বাউল হওয়ার শখ,
আমার ছিল জাদু শেখার কথা,
আমার ছিল ঘুমিয়ে পড়ার মন,
নীল আকাশে জড়িয়ে নকশী কাঁথা

হেমন্তের শস্যহীন ন্যাড়া মাঠ অপেক্ষায় থাকবে | বৃষ্টি জলে ধুয়ে কবিতার বীজ বপন করবে নবীন কবির দল | মুক্তক ছন্দে ভরে উঠবে খামার |

অবসন্ন বেলায় ঈশ্বরীর বাগানে, গা এলিয়ে পড়ে ছিল কামরাঙা রোদ, পোড়ো বাড়িটার উঠোন থেকে, উঠে এসে উড়নচণ্ডী হাওয়া দূরান্বয়ী ছায়া দিয়ে

আমি বসে আছি নিস্তরঙ্গ কলরবকূলে, মালতীলতায় এবার ফুল আসেনি, হাঁড়িতে মা ভবানী, উনুনে পুড়ছে অস্তিত্বের ব্যাকুলতা
3 Responses
হাস্যরস সৃষ্টি যে কত অনায়াস হতে পারে, এই লেখাটি তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
জড়তাহীন, নির্মেদ, দমফাটা হাসির নাটক।
২০১৪ এর শারদীয়া জিয়ন কাঠি তে বেরিয়েছিল।
দুর্ভাগ্যের বিষয় , সেই ২০১৪ এর পর হাজার তাগাদা দিয়েও আর একটি নাটক লেখকের কাছে আদায় করা গেল না।
হাস্যরস সৃষ্টি কত অনায়াস হতে পারে, এই রচনা টি তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
নির্মেদ, জড়তাহীন, দম ফাটা হাসির নাটক।
সেই ২০১৪ সালের শারদীয়া জিয়ন কাঠি তে বেরিয়েছিল।
দুর্ভাগ্যের বিষয়, তার পর শত চেষ্টা করেও আর একটি নাটক লেখকের কাছে আদায় করা গেল না।
অনেক দিনের পুরানো লেখা, এই লেখার সূত্রপাত যখন আমরা গ্র্যাজুয়েশন এ পড়ি, ২০১০-১১ সাল নাগাদ।
সেই তাপস পাত্রকে হারিয়ে ফেলছি আমরা।