
জাদুকরের মৃত্যু
আমার ছিল বাউল হওয়ার শখ,
আমার ছিল জাদু শেখার কথা,
আমার ছিল ঘুমিয়ে পড়ার মন,
নীল আকাশে জড়িয়ে নকশী কাঁথা
জন্ম: ২৯ মে ১৮৭৪
মৃত্যু: ১৪ জুন ১৯৩৬
আজকের দিনে জন্মেছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের এক বর্ণময় চরিত্র—গিলবার্ট কিথ চেস্টারটন, যিনি ছিলেন একাধারে প্রাবন্ধিক, রম্যরচনাকার, ঔপন্যাসিক, কবি এবং ধারালো যুক্তিবিদ। তাঁর লেখায় মেলে নিখাদ যুক্তি, নির্মল হাস্যরস, সমাজের প্রতি সূক্ষ্ম দৃষ্টি এবং জীবনের প্রতি অপার কৌতূহল। তাঁর লেখা গোয়েন্দা-গল্প সিরিজ “Father Brown”, দার্শনিক প্রবন্ধ “Orthodoxy”, এবং রাজনৈতিক উপন্যাস “The Man Who Was Thursday” আজও পাঠকমনকে আলোড়িত করে।
বিশ্বজুড়ে সাহিত্যপ্রেমীরা আজও তাঁর লেখায় খুঁজে পান জীবনের সরল সৌন্দর্য এবং বুদ্ধিদীপ্ত দৃষ্টিভঙ্গির দিশা। আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি তাঁকে।
…………………..
জি. কে. চেস্টারটনের অন্যতম জনপ্রিয় রম্য প্রবন্ধ
“On Running After One’s Hat” থেকে নির্বাচিত অংশ (বাংলা অনুবাদ)
“যখন শহরে ভারী বৃষ্টি নামে, আর হাওয়ার তোড়ে মানুষের টুপি উড়ে যায়, তখন বেশিরভাগ মানুষ বিরক্ত হয়। কিন্তু একদিন আমি দেখলাম, একটি ছোট মেয়ে হাসছে—একজন লোক রাস্তায় তার টুপি ধরতে ছুটছে দেখে। এবং হঠাৎ করেই আমার মনে হলো—এ দৃশ্যটি তো দারুণ মজার!
আমরা জীবনকে এত বেশি গুরুতর করে তুলেছি যে, হাসির সুযোগগুলোকে অপমান মনে করি। অথচ, এমন কি বিষয় আছে যা শুধু দৃশ্যপট পাল্টালেই লজ্জা থেকে আনন্দ হয়ে যায়?
ধরুন, আপনি যদি পার্কে খেলাধুলা করতে গিয়ে ছুটতেন, কেউ হাসত না। অথচ হঠাৎ হাওয়ায় টুপি উড়ে গেলে আপনি ছুটতে শুরু করলেই সবাই হাসতে থাকে। কেন? শুধু এই জন্য যে আপনি এখন ‘বিধিবহির্ভূতভাবে’ মজা করছেন!
জীবনের অনেক ‘বিরক্তিকর’ মুহূর্তও আসলে মজার হতে পারে, যদি আমরা তাকানোর দৃষ্টিভঙ্গি বদলাই। আমাদের দরকার শুধু একটু কল্পনাশক্তি। যদি আমরা মনে করি, টুপি ধরার এই দৌড় একটি খেলা, তাহলে এতে মন খারাপ কেন হবে?
একজন সুখী মানুষ সে-ই, যে খারাপ সময়েও খুঁজে নিতে পারে ভালো কিছু। রাস্তায় জল জমে গেলে আপনি হাঁটতে পারেন রাগ নিয়ে, আবার চাইলে সেটাকে কল্পনা করতে পারেন একধরনের নৌকা-বিহার বলে।
অতএব, যখন টুপি উড়ে যায়—তখন দৌড়ান, কিন্তু রাগ নিয়ে নয়। দৌড়ান যেন আপনি খেলছেন। কারণ পৃথিবীতে এমন অনেক জিনিস আছে, যা শুধু আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির জন্যই কষ্টকর—আসলে সেগুলো আনন্দের খনি।”

আমার ছিল বাউল হওয়ার শখ,
আমার ছিল জাদু শেখার কথা,
আমার ছিল ঘুমিয়ে পড়ার মন,
নীল আকাশে জড়িয়ে নকশী কাঁথা

হেমন্তের শস্যহীন ন্যাড়া মাঠ অপেক্ষায় থাকবে | বৃষ্টি জলে ধুয়ে কবিতার বীজ বপন করবে নবীন কবির দল | মুক্তক ছন্দে ভরে উঠবে খামার |

অবসন্ন বেলায় ঈশ্বরীর বাগানে, গা এলিয়ে পড়ে ছিল কামরাঙা রোদ, পোড়ো বাড়িটার উঠোন থেকে, উঠে এসে উড়নচণ্ডী হাওয়া দূরান্বয়ী ছায়া দিয়ে

আমি বসে আছি নিস্তরঙ্গ কলরবকূলে, মালতীলতায় এবার ফুল আসেনি, হাঁড়িতে মা ভবানী, উনুনে পুড়ছে অস্তিত্বের ব্যাকুলতা
One Response
জন্মদিনের আন্তরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা
এরকম কালজয়ী সাহিত্যিকরা সারা পৃথিবীর জন্য সম্পদ