
জাদুকরের মৃত্যু
আমার ছিল বাউল হওয়ার শখ,
আমার ছিল জাদু শেখার কথা,
আমার ছিল ঘুমিয়ে পড়ার মন,
নীল আকাশে জড়িয়ে নকশী কাঁথা
চাকরি করার মজাটা তখনই পরিপূর্ণ উপলব্ধি করা যায় যখন একটা পৈত্রিক সুন্দর বাড়ি থাকে। আর তা না হলে পুরো উপার্জন এবং আরো কিছু বাড়তি লোন করতে হয় বাড়ি বানাতে। না সে দিক থেকে অতীন্দ্রবাবু বেশ সুখী। পৈতৃক দোতলা বাড়ি। সাজানো সংসার। দাদা নিত্যানন্দ বিদেশে থাকেন ।সেখানে তার বিরাট অবস্থা এখানের জল আবহাওয়ার খবরাখবর নেওয়ারও সময় পর্যন্ত নেই তার।
তিন বছর মাতৃবিয়োগ হয়েছে। বছর দুই হল ভালো পরিষেবার কথা বলে বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসেছেন, এখন একপ্রকার স্বামী- স্ত্রীর চরম সুখের সংসার। বড়দা এত বড় চাকরি করা সত্ত্বেও বাবার কোন দায়িত্ব নিতে চায় না, বিদেশে আনন্দময় জীবন উপভোগ করছে । অতীন্দ্র শুধু শুধু প্রাইমারি স্কুল টিচারের চাকরি করে বৃদ্ধ রুজি রোজগারহীন মানুষটার সমস্ত প্রয়োজনীয়তা মেটাবে এটা জগত সংস্থারের নিয়মের বাইরে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। বুড়ো মানুষটা বসে বসে খাবে আবার সারাদিন খিটখিট করবে এ মেনে নেওয়া যায় না।
দুটো কথা পর্যন্ত শোনাবার উপায় নেই বুড়োকে! কিছু বললেই আবার বলে- “তাহলে আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে দিয়ে আয়”! ওই আর কি, একদিন সত্যি সত্যিই বৃদ্ধাশ্রমে রেখে এসে সংসারে চিরশান্তি ফিরিয়ে এনেছেন অতীন্দ্র। স্ত্রী অনিন্দিতা স্বামীর এই আচরণে জীবনের সেরা সুখ পেয়েছেন।
ঘটনার দু’বছর অতিক্রান্ত হয়েছে প্রথম প্রথম বৃদ্ধাশ্রমে যাতায়াতটা দুই মাস তিন মাস অন্তর অন্তর হলেও পরবর্তীতে সেটা ছয় মাসে একবার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবনের এই মাধুর্য এই রোমান্টিসিজম সত্য সত্যই উপলব্ধি করা দুষ্কর হতো যদি ওই বৃদ্ধ মানুষটা বৃদ্ধাশ্রমে না থাকতো।
এভাবে অতিক্রান্ত হচ্ছিল সুখের দিনগুলো হঠাৎ একদিন জানলা দিয়ে প্রকৃতির অতুলনীয় সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন অতীন্দ্র এবং অনিন্দিতা। এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠলো
হাতে একটা নোটিশ নিয়ে দুজন লোক দাঁড়িয়ে আছে ।
দরজা খুললেন অনিন্দিতা
….কি ব্যাপার কাকে চাই
.……”অতীন্দ্র বাবু আছেন”
অতীন্দ্র এগিয়ে এলেন
……..”হ্যাঁ বলুন আমি অতীন্দ্রমোহন চক্রবর্তী।”
…….”ধন্যবাদ স্যার সাত দিনের মধ্যে আপনাকে ঘরটা খালি করে দিতে হবে.”
আকাশ থেকে পড়লেন অতীন্দ্রমোহন
……”পৈতৃক বাড়ি খালি করে দিতে হবে মানে? এ আবার কি রকম আজগুবি কথা মাথায় ঢুকলো না।”
……….”দুঃখিত অতীন্দ্র বাবু; আপনার বাবা বাড়িটি বৃদ্ধাশ্রমের নামে দান করে দিয়েছেন”..

আমার ছিল বাউল হওয়ার শখ,
আমার ছিল জাদু শেখার কথা,
আমার ছিল ঘুমিয়ে পড়ার মন,
নীল আকাশে জড়িয়ে নকশী কাঁথা

হেমন্তের শস্যহীন ন্যাড়া মাঠ অপেক্ষায় থাকবে | বৃষ্টি জলে ধুয়ে কবিতার বীজ বপন করবে নবীন কবির দল | মুক্তক ছন্দে ভরে উঠবে খামার |

অবসন্ন বেলায় ঈশ্বরীর বাগানে, গা এলিয়ে পড়ে ছিল কামরাঙা রোদ, পোড়ো বাড়িটার উঠোন থেকে, উঠে এসে উড়নচণ্ডী হাওয়া দূরান্বয়ী ছায়া দিয়ে

আমি বসে আছি নিস্তরঙ্গ কলরবকূলে, মালতীলতায় এবার ফুল আসেনি, হাঁড়িতে মা ভবানী, উনুনে পুড়ছে অস্তিত্বের ব্যাকুলতা
4 Responses
তাপস পাত্রের লেখা “পৈতৃক বাড়ি” একটি প্রাসঙ্গিক, চিন্তাধারাকে নাড়িয়ে দেওয়া গল্প—যেখানে পারিবারিক সম্পর্ক, দায়িত্ববোধ, এবং আত্মকেন্দ্রিক স্বাচ্ছন্দ্যের মুখোশের নিচে চাপা পড়ে থাকা মানবিকতার চরম বিপর্যয় উঠে আসে। লেখক সাবলীল ভাষায় পাঠককে এমন এক যাত্রায় নিয়ে যান যেখানে শুরুতে দেখা মেলে এক সাজানো সংসারের, কিন্তু শেষমুহূর্তে ঘটে যায় এক নৈতিক ভূমিকম্প।
🌟 রেটিং: ৪.৭/৫
মূল বার্তা: ভালোবাসা আর দায়িত্ব—দুটোই পারস্পরিক হোক, নইলে উত্তরাধিকার শুধু ইট-কাঠের দেয়াল হয়ে থাকে না।
ঋজু এবং ধারালো গল্প।
তাপস পাত্রের “পৈতৃক বাড়ি” গল্পটি একটি চমৎকার সামাজিক চিত্র তুলে ধরেছে । গল্পটি সমাজের সেই সব সন্তানদের দিকে আঙুল তোলে যারা অতীন্দ্রের মতো বৃদ্ধ বাবা-মা কে সংসারের এবং জীবনের বোঝা মনে করে এবং আধুনিক জীবনযাপনের সুবিধার জন্য তাদের থেকে দূরে থাকতে চায় । এখানে বৃদ্ধ বাবার প্রতি অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার পরিণতি একটি চমৎকার মোড়ে এসে শেষ হয়েছে ।
তাপস পাত্রের “পৈতৃক বাড়ি” গল্পটি একটি চমৎকার সামাজিক চিত্র তুলে ধরেছে । গল্পটি সমাজের সেই সব সন্তানদের দিকে আঙুল তোলে যারা অতীন্দ্রের মতো বৃদ্ধ বাবা-মা কে সংসারের এবং জীবনের বোঝা মনে করে এবং আধুনিক জীবনযাপনের সুবিধার জন্য তাদের থেকে দূরে থাকতে চায় । এখানে বৃদ্ধ বাবার প্রতি অবহেলা এবং দায়িত্বহীনতার পরিণতি একটি চমৎকার মোড়ে এসে শেষ হয়েছে।