
জাদুকরের মৃত্যু
আমার ছিল বাউল হওয়ার শখ,
আমার ছিল জাদু শেখার কথা,
আমার ছিল ঘুমিয়ে পড়ার মন,
নীল আকাশে জড়িয়ে নকশী কাঁথা
১
সোনালী বিকেলগুলো আজকাল দ্রুত সন্ধ্যায় মিশে যায়।
মা রোজ বিকেলে বেরনোর আগে
চোখ সরিয়ে বলে- ‘তাড়াতাড়ি ফিরে আসিস খোকা’।
যাদব মামাও বিকেল হতেই খেজুর গাছে হাড়ি বেঁধে বাড়ি আসে।
নতুন সকালের প্রত্যাশায়!
২
নিঝুম সন্ধ্যায় ঝিঁঝিঁরাও ডাকতে ভুলে যায় আজকাল।
শাঁখের আওয়াজে আন্দাজ হয়–সন্ধ্যা নেমেছে।
রাতের আঁধারে প্রতিবেশী তারাদের দল
দেখা দেয় কুলঙ্গির ফাঁকে ।
সারারাত কুপিটার ধোঁয়া অশরীরী গল্পের মতো
দেওয়াল জুড়ে এঁকেবেকে চলে যায়।
মা খুব ভোরে মুরগি ডাকলে আমাদের উঠে পড়তে বসায়।
স্বপ্ন দেখে দিন বদলের…
৩
শিশিরে স্নিক্ত আলপথকে আমার নরম বিছানা মনে হয়।
বাবার খালি পা নরম ঘাসের বুকের উপর দিয়ে চলেছে অনির্দেশে…
বাবার পিছনে হাঁটতে হাঁটতে আমি হঠাৎ থমকাই
মনে হয় সোনালী ধানের শিষগুলি আমায় যেন আটকাতে চাইছে।
শুধু বাবা আর আমার মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যায়…
৪
আমি আর বাবা আজও হেঁটে চলি
অনন্ত গ্রীষ্ম-শীতের মাঝখানে একটু
রঙিন হেমন্তের অপেক্ষায়।
যখন নরম রোদ পীঠে নিয়ে
খাব দুজনে ঝোলা গুড় মেখে বাসি রুটি…
শুধু দূর থেকে আজও কানে বাজে মায়ের সেই ডাক-
‘খোকা, সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরে আসবি কিন্তু!’

আমার ছিল বাউল হওয়ার শখ,
আমার ছিল জাদু শেখার কথা,
আমার ছিল ঘুমিয়ে পড়ার মন,
নীল আকাশে জড়িয়ে নকশী কাঁথা

হেমন্তের শস্যহীন ন্যাড়া মাঠ অপেক্ষায় থাকবে | বৃষ্টি জলে ধুয়ে কবিতার বীজ বপন করবে নবীন কবির দল | মুক্তক ছন্দে ভরে উঠবে খামার |

অবসন্ন বেলায় ঈশ্বরীর বাগানে, গা এলিয়ে পড়ে ছিল কামরাঙা রোদ, পোড়ো বাড়িটার উঠোন থেকে, উঠে এসে উড়নচণ্ডী হাওয়া দূরান্বয়ী ছায়া দিয়ে

আমি বসে আছি নিস্তরঙ্গ কলরবকূলে, মালতীলতায় এবার ফুল আসেনি, হাঁড়িতে মা ভবানী, উনুনে পুড়ছে অস্তিত্বের ব্যাকুলতা