
জাদুকরের মৃত্যু
আমার ছিল বাউল হওয়ার শখ,
আমার ছিল জাদু শেখার কথা,
আমার ছিল ঘুমিয়ে পড়ার মন,
নীল আকাশে জড়িয়ে নকশী কাঁথা
কবিতা লেখার পর বেশ কিছুক্ষণ
থরের মতো নিথর হয়ে যায়,
ভাবনার ইথার তরঙ্গ।
নিশ্চল হয়ে যায় পৃথিবীর আবর্তন গতি….
মনেহয় আমার নিউক্লিয়াস থেকে
ছিটকে গেছে সব ইলেক্ট্রন।
মহাভারতের পাতায় কালো অক্ষরের অন্ধকারে
স্তব্ধ হয়েগেছে পাণ্ডব- কৌরবদের
শাণিত অসির আস্ফালন,
তখন গ্রন্থহারা ক্লান্ত মলাট হয়ে
কাতরাতে থাকি…
নবজাতকের জননীর মতো।
তারপর স্নেহসূর্যের উৎসারিত লীনতাপ
আর সুখ- দুঃখের শুক্রের মিথোস্ক্রিয়ায়
গড়া যার ভূগোল…
সে তখন ইতিহাসের বিছানায়–
হাত-পা ছোঁড়ে।
প্রথম পিতৃত্বের ঘ্রাণ নেবার জন্য
তার তুলতুলে ললাটে—
এঁকেদিই চুম্বনের জয়টিকা।
নবজাতক তখন নক্সীকাঁথায় শুয়ে
দেয়ালায় দিন কাটায়,
আর সিজার কিংবা আলেকজান্ডারের মতো
স্বপ্ন দেখে বিশ্বজয়ের।।

আমার ছিল বাউল হওয়ার শখ,
আমার ছিল জাদু শেখার কথা,
আমার ছিল ঘুমিয়ে পড়ার মন,
নীল আকাশে জড়িয়ে নকশী কাঁথা

হেমন্তের শস্যহীন ন্যাড়া মাঠ অপেক্ষায় থাকবে | বৃষ্টি জলে ধুয়ে কবিতার বীজ বপন করবে নবীন কবির দল | মুক্তক ছন্দে ভরে উঠবে খামার |

অবসন্ন বেলায় ঈশ্বরীর বাগানে, গা এলিয়ে পড়ে ছিল কামরাঙা রোদ, পোড়ো বাড়িটার উঠোন থেকে, উঠে এসে উড়নচণ্ডী হাওয়া দূরান্বয়ী ছায়া দিয়ে

আমি বসে আছি নিস্তরঙ্গ কলরবকূলে, মালতীলতায় এবার ফুল আসেনি, হাঁড়িতে মা ভবানী, উনুনে পুড়ছে অস্তিত্বের ব্যাকুলতা