
হেমন্তের দেশে
হেমন্তের শস্যহীন ন্যাড়া মাঠ অপেক্ষায় থাকবে | বৃষ্টি জলে ধুয়ে কবিতার বীজ বপন করবে নবীন কবির দল | মুক্তক ছন্দে ভরে উঠবে খামার |
বাবার ট্যাক থেকে টুপ-টাপ খসে পড়ে
সংসারের নানান খুচরো।
আমার গণিত জানা মা তা কুড়িয়ে রাখেন আঁচলের খুটে।
আমি ভাবি সংসার বুঝি কাব্যকথা।
মা বলেন – সংসার একটি গণিত ।
সংসার গণিত কিনা জানি না,
তবে বাবা যখন গ্রামের রাস্তায় কুয়াশার ভেতর
জীবনানন্দের মতো হেঁটে বেড়ান তখন যাবতীয়
গণিতের সূত্রগুলি তার পিছনে পিছনে দৌড়ায়।
আর পিথাগরাসের সূত্রে
অতিভূজের মতো দুঃখের বোঝা লম্বা হয় ।
আমার বাবার লাঙলের বোটায় স্বরবর্ণ
আর কাস্তের বাঁকা ফলায় ব্যাঞ্জনবর্ণ
তাঁর যোগের খাতায় বিরাট একটা শূন্য
সকালে মায়ের সাথে গলা মিলিয়ে পড়তাম
”পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল
কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল “
ওদিকে লাঙলের ফলায় উঠে আসছে মাটি
রুখাসুখামাঠে লেখা হচ্ছে বিয়োগের নামতা
লক্ষ্মীর পদ্মচিহ্ন আঁকা উঠোন
শুনে বৃষ্টি পতনের শব্দ।
মায়ের দুচোখে নদী,
নদীর জল বারবার ধুয়ে দেয় জলের উঠোন।
সকালের রোদমাখানো পাঠশালায়
গণিতের হাতে খড়ি দিয়ে
মাও একদিন ঘুমিয়ে যায় ।
বাবার হাতের রেখা থেকে হারিয়ে যায় তিলোত্তমা।
দ্রুত উড়ে যায় একটি ডানাওয়ালা মেঘ।
তখন সমস্ত বোধ তার আগুনের কাছে স্তব্ধ হয়ে যায়।
অঙ্ক না জানা বাবার গাছের বিরহ মাপতে ভুল হয়।
আর ভূভারতের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যায় সরস্বতী নামের নদী।

হেমন্তের শস্যহীন ন্যাড়া মাঠ অপেক্ষায় থাকবে | বৃষ্টি জলে ধুয়ে কবিতার বীজ বপন করবে নবীন কবির দল | মুক্তক ছন্দে ভরে উঠবে খামার |

যার সাথে ঘর বেঁধেছি আমি, মেয়েটি ঝগড়ুটে, আধখানা চাঁদ উধাও হলে, হলদে পলাশ ফোটে | যার সাথে ঘর বেঁধেছি আমি, মেয়েটি ঝগড়ুটে

ফেরিঘাটে চরকা কাটে, চন্দ্রপ্রভারাত। ঘরেরছেলে ঘরে ফেরেনি, দাঁতে কাটেনি ভাত। সাঁকোর উপর বসে আছে, একটা শালিক পাখি।

ঈশ্বর দেখিনি আমি |ঈশ্বর পূজেছি| মানুষ দেখেছি আমি |মানুষ পুজিনি |সেই পাপে বিবর্ণ হয়েছে মাটি| ছায়া ফিরে গেছে গাছে |একটি ছাতিম গাছএকা একা রবি ঠাকুরের