
আবর্ত
পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।
তোমার দেখা পেলেই
ছায়াহীন মাঠ প্রসন্ন হয়ে ওঠে
সাত সমুদ্র কল্লোলিত হয়
অরণ্যে অরণ্যে পাখিদের সভা বসে।
শূন্যতায় শূন্যতায় ছেয়ে আছে
বাক্ চপল জনারণ্যের সীমানা
কাছে পিঠে বাণিজ্য বায়ুর কপটতা
নিষাদের তির হয়ে উৎকর্ণ।
এখন তোমাকে খুঁজে ফিরি
নিস্তব্ধতার নির্জন পথে পথে।
শাল পিয়ালের বনে
সকালের রোদ ডানা মেলে বসে আছে
তার কাছে পথের সন্ধান খুঁজতেই
সে জানিয়ে দিল
পরিক্রমায় নিজেই খুঁজে নাও পথের ঠিকানা।
এবড়ো খেবড়ো পায়ে চলার রাস্তায়
চলেছে একটি শরীর
কাঁধে ব্যাগ বাঁ দিকে ফেরানো মুখ
হয়তো কিছু খুঁজতে খুঁজতে নাকাল
কখনো কখনো রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নেয়
নুড়ি পাথর
ব্যাগের ভেতর সেগুলো জল ও আগুনের গল্প বলে
তখন চরাচরে শব্দের কলধ্বনি বেজে ওঠে।
অনেক চেনা অচেনা মুখচ্ছবি ছায়া ফেলে যায়।
যার কাছে গিয়ে দাঁড়াবে সেই লোকটা
দুঃখের ভার মুছে নেবার জন্য
সে কি নিজের দুঃখের ভার বহন করতে না পেরে
চলে গেছে নিরুদ্দেশের পথে ?
লোকটা খুঁজে বেড়াচ্ছে অস্থির হয়ে
আজও তার ঘরে ফিরে আসা হয়নি।।

পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।

পায়ে পায়ে পথ চলা, তোমার সঙ্গে কথা বলা, ফুরোয় না ফুরোয় না একেবারেই । চলো যাই নীপবনে, আপনমনে প্রত্নলিপির আবক্ষস্নান

একরাশ ধুলোর ঘূর্ণি ঘুরপাক দিয়ে, তছনছ করে দিচ্ছে ঘর সংসারের প্রাত্যহিক ভাষা, ভেঙে দিচ্ছে সম্ভ্রমের ভালোবাসা, আর দৈনন্দিন নিরাপত্তা।