
আবর্ত
পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।
অনেক দীর্ঘশ্বাস জড়ো হয়ে
তৈরি করেছে তমসার ভুবন
যার কোনো দিগন্ত নেই
নক্ষত্রহীন আকাশে যার কোনো পূর্ণিমা নেই
নেই কোনো সূর্যসকাল আলো।
তাই ঈশ্বরকে ডেকেছিলাম।
তখন ঈশ্বরী এলেন
কথা বলতে বলতে
কথার শেষে পৌঁছনোর আগেই
আসছি বলে চলে গেলেন।
আসছি কথাটার ভেতর থেকে
না-আসার ফড়িং উড়তে উড়তে
ভিন্ন এক লম্বমান ঘাসের আগায় বসে
গোত্রান্তরের খোশগল্প করতে লাগলো।
দেখেও না-দেখার চোখ নিয়ে
মন খারাপের আকাশটাকে সঙ্গী করে
সদর দরজা খুলে রাখলাম
যদি ঈশ্বর আসেন।
হঠাৎ কাছে এলো একটা দ্বীপ
চারদিকে জল ছলছল
দূরে একটি ভাঙা নৌকো।
সদর দরজা দিয়ে সেই নৌকো ঘরে এসে ঢুকলো।
তার ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন
গল্প বলার এক জ্যোৎস্নাময়ী নারী
ঈশ্বরীর মতো।
মৃদু হেসে তিনি বললেন
সদর দরজা খুলে রাখলে
ঈশ্বর আসেন না।
দরজা বন্ধ করো
বন্ধ দরজায় করাঘাত করে ঈশ্বর আসবেন।
এই কথা বলে
জ্যোৎস্নার আলো নিভিয়ে দিয়ে
থমকে থাকা হাওয়ায় তিনি মিলিয়ে গেলেন।
সদর দরজা বন্ধ করেছি
বন্ধ দরজা আজও বন্ধ আছে।।

পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।

পায়ে পায়ে পথ চলা, তোমার সঙ্গে কথা বলা, ফুরোয় না ফুরোয় না একেবারেই । চলো যাই নীপবনে, আপনমনে প্রত্নলিপির আবক্ষস্নান

একরাশ ধুলোর ঘূর্ণি ঘুরপাক দিয়ে, তছনছ করে দিচ্ছে ঘর সংসারের প্রাত্যহিক ভাষা, ভেঙে দিচ্ছে সম্ভ্রমের ভালোবাসা, আর দৈনন্দিন নিরাপত্তা।