
আবর্ত
পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।
শালফুলের গন্ধে ভেসে গেল
আমার গার্হস্থ্য সন্ন্যাস।
দায়িত্ববান নিয়মকানুন চুপিসাড়ে চলে গেল
দৈবজ্ঞের হাতে।
প্রতিপত্তি জাঁক করে বলে ওঠে
—তাতে তোর কী?
—আমার কিছুই নয়,
ভয় হয় মাটিতে রাখার পা
হারায় যদি ব্যবহার্য নির্ভরতা
শূন্য ভবিতব্য বৈধ বলে মেনে নিতে হবে।
তথাপি উপাসনার মতো সাধের বাসনাগুলি
বাসভূমি ছেড়ে যেতে রাজি নয়।
তাদের জন্য কিছুই করতে পারি না
তবু সারাক্ষণ সঙ্গে সঙ্গেই থাকে
রাজহাঁসের মতো আমার শরীর মনে
সাঁতার দিয়ে জলকণা ছড়ায়
তাদের শিকড়ে লেগে থাকে
নদীর জলে অবগাহন
তারা থাকে আদিম তৃষ্ণা নিয়ে
আমার মেদিনী জুড়ে।
শুনেছি আকন্দ ফুলের বনেও নাকি
অন্তরীক্ষের এক তৃষ্ণা আছে
সে নদীতে ডুব দিয়ে পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায়
অগ্নিময় পদাবলি রচনা করে।
আকন্দফুলের বন মাড়িয়ে
শালফুলের গন্ধ মেখে
তুমি নেমে গেলে নদীর জলে
সেই রহস্যে থমকে গেল
আমার সন্ন্যাসমুদ্রা।
নদীতে নামার আগে তোমার প্রকৃতিস্থ বৈভব
ছড়িয়ে দিল গ্রীবাভঙ্গির নিষ্ঠুর বিদ্রূপ।
আমার ঐকান্তিক হৃদয়ে ছিল
শারীরিক স্তব্ধতার স্তবময় নিরুদ্দেশ প্রার্থনাজ্ঞাপন।
অভিমানী কাহিনির একটি সুবর্ণমুদ্রা
কখন যে পড়ে গেল আবর্তের বাঁকে
খেয়াল করিনি।
এখন সন্ন্যাসীর নদী মাঠ পথ ঘাট আচার বিশ্বাস
আর বুকের পাঁজর ধর্ণা দিয়ে পড়ে আছে
তোমার অবগাহন তুলে নিতে
বেঁচেবর্তে থাকা বৈরাগীর লৌকিক শরীরে।।

পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।

পায়ে পায়ে পথ চলা, তোমার সঙ্গে কথা বলা, ফুরোয় না ফুরোয় না একেবারেই । চলো যাই নীপবনে, আপনমনে প্রত্নলিপির আবক্ষস্নান

একরাশ ধুলোর ঘূর্ণি ঘুরপাক দিয়ে, তছনছ করে দিচ্ছে ঘর সংসারের প্রাত্যহিক ভাষা, ভেঙে দিচ্ছে সম্ভ্রমের ভালোবাসা, আর দৈনন্দিন নিরাপত্তা।