
আবর্ত
পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।
ভরদুপুরে গাছের তলায়
বসে ছিল স্বল্পবসন বাচাল কিছু ছায়া
জ্যৈষ্ঠ মাসের হঠাৎ হাওয়া
মাতাল হয়ে ঘনিষ্ঠতা দাবি করছিল।
সেই সময় অর্বাচীন গঞ্জের ভ্রমণবিলাসী কয়েকটি পতঙ্গ এসে বলে গেল
বৃষ্টি আসছে সমারোহে।
তখন উঠোন থেকে তাই রোদ উঠে গেল
বলল–যাই তবে।
ভাসতে ভাসতে এক চিলতে মেঘ এসে বলে গেল
বৃষ্টি আজ আসতে পারবে না
তার ঘরকন্নার কাজ আছে
আর বাক্সবন্দী জামাকাপড় রৌদ্রে দিতে হবে।
বৃষ্টির কথা ভাবতে গিয়ে
রোদের কথা মনে পড়ল
তখন তাকে আর কাছে পাওয়া গেল না।
আকাশে তখন কাদম্বিনী মেঘ ঘন হয়ে এসেছে।
বৃষ্টি নামের এক বালিকা
আঁচলে বাঁধা এক মুঠো রোদ
ছড়িয়ে দিয়ে গেল আমার ঘরের উঠোনের গাছতলায়।

পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।

পায়ে পায়ে পথ চলা, তোমার সঙ্গে কথা বলা, ফুরোয় না ফুরোয় না একেবারেই । চলো যাই নীপবনে, আপনমনে প্রত্নলিপির আবক্ষস্নান

একরাশ ধুলোর ঘূর্ণি ঘুরপাক দিয়ে, তছনছ করে দিচ্ছে ঘর সংসারের প্রাত্যহিক ভাষা, ভেঙে দিচ্ছে সম্ভ্রমের ভালোবাসা, আর দৈনন্দিন নিরাপত্তা।