
সম্পাদকীয় : জি. কে. চেস্টারটনকে জন্মদিনে শ্রদ্ধা
আজকের দিনে জন্মেছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের এক বর্ণময় চরিত্র—গিলবার্ট কিথ চেস্টারটন, যিনি ছিলেন একাধারে প্রাবন্ধিক, রম্যরচনাকার, ঔপন্যাসিক, কবি এবং ধারালো যুক্তিবিদ।
২০২৫ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত হয়েছেন ব্রাজিলের বেদান্ত প্রচারক আচার্য জোনাস মাসেত্তি। এই স্বীকৃতি শুধু একজন ব্যক্তির অর্জন নয়—এটি ভারতীয় দর্শনের আন্তর্জাতিক প্রসারের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে দক্ষিণ আমেরিকার মানুষদের নিকট পৌঁছে দিয়ে তিনি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
প্রকৌশলী থেকে আধ্যাত্মিক পথিক
রিও ডি জেনেইরোতে জন্মগ্রহণ করেন জোনাস মাসেত্তি। তিনি ব্রাজিলের সামরিক প্রকৌশল ইনস্টিটিউট (IME) থেকে যান্ত্রিক প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সেনাবাহিনীতে পাঁচ বছর কাজ করেন। পরে স্টক মার্কেট বিশ্লেষক হিসেবেও কাজ করেন। কিন্তু এসব বাহ্যিক সাফল্যের মাঝেও তিনি অন্তরে এক অপূর্ণতার অনুভব করেন। সেই অনুসন্ধানেই তিনি আধ্যাত্মিকতার পথে এগিয়ে যান।
২০০৪ সালে তিনি ব্রাজিলে বসবাসকারী এক ভারতীয় গুরু থেকে বেদান্ত শিক্ষা গ্রহণ শুরু করেন। এরপর গ্লোরিয়া আরিয়েরা নামক আরেক শিক্ষক তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেন। ২০০৬ সালে তিনি ভারতে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর সান্নিধ্যে আসেন এবং কোয়েম্বাটুরের আর্শ বিদ্যা গুরুকুলামে তিন বছর আবাসিক শিক্ষা গ্রহণ করেন।
ব্রাজিলে বেদান্তের আলো
ভারতে শিক্ষাগ্রহণ শেষে মাসেত্তি নিজ দেশে ফিরে পেত্রোপোলিসে প্রতিষ্ঠা করেন “ইনস্টিটুটো বিশ্ব বিদ্যা”। এই প্রতিষ্ঠান বেদান্ত, সংস্কৃত, যোগ, ধ্যান এবং মন্ত্র শিক্ষার একটি কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে দেড় লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। তাঁর শিক্ষা পদ্ধতি সহজবোধ্য এবং অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ, যার মাধ্যমে অনেকেই জীবনের গভীরতর অর্থ খুঁজে পেয়েছেন।
পদ্মশ্রী: এক বৈশ্বিক স্বীকৃতি
আচার্য মাসেত্তি যখন পদ্মশ্রী গ্রহণ করতে আসেন, তিনি ছিলেন সাদা ধুতি পরে, তিলক এঁকে এবং খালি পায়ে। তার এই প্রকাশই তার আধ্যাত্মিক জীবনের গভীরতা ও সরলতার প্রতীক। ভারত সরকার তাঁর শিক্ষা ও প্রচেষ্টাকে সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে আচার্য মাসেত্তির কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে বৈদিক সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক দূত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আচার্যের বাণী ও দর্শন
আচার্য মাসেত্তি বিশ্বাস করেন, বেদান্ত কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সংস্কৃতির বিষয় নয়—এটি সর্বজনীন সত্য, যা যেকোনো জাতি, ভাষা বা সংস্কৃতির মানুষের অন্তরে কথা বলে। তিনি বলেন,
“আমি পশ্চিমা সমাজে যা কিছু অর্জন করার থাকে, সবই পেয়েছিলাম। কিন্তু তবুও মনে হতো কিছু একটা অনুপস্থিত। সেই শূন্যতা থেকেই আমি সত্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়েছিলাম।”
উপসংহার
আচার্য জোনাস মাসেত্তির জীবন আমাদের শেখায়, আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং আত্মসন্ধান কোনও নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতীয় বেদান্ত দর্শন আজও বিশ্বব্যাপী মানুষের হৃদয়ে আলো জ্বালাতে সক্ষম, এবং এই আলো পৌঁছাতে পারে একজন ব্রাজিলিয়ান প্রকৌশলীর অন্তর থেকেও। তাঁর জীবন ও সাধনা এক যুগান্তকারী বার্তা বহন করে—সত্য ও শান্তির পথ সকলের জন্য উন্মুক্ত।
জোনাস মাসেত্তি (বিশ্বনাথ নামেও পরিচিত) হলেন বেদান্ত ও যোগের একজন ব্রাজিলিয়ান শিক্ষক এবং পদ্মশ্রী প্রাপ্ত। তিনি স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর একজন প্রত্যক্ষ শিষ্য এবং বেদান্ত, ভগবদ্গীতা এবং বৈদিক ঐতিহ্যের সংশ্লিষ্ট দিকগুলির শিক্ষা প্রচারে তাঁর কাজের জন্য পরিচিত, প্রাথমিকভাবে ব্রাজিলে, যেখানে তিনি বর্তমানে বসবাস করছেন।

আজকের দিনে জন্মেছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের এক বর্ণময় চরিত্র—গিলবার্ট কিথ চেস্টারটন, যিনি ছিলেন একাধারে প্রাবন্ধিক, রম্যরচনাকার, ঔপন্যাসিক, কবি এবং ধারালো যুক্তিবিদ।

আজকের এই সময়ে, যখন প্রশ্ন করা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, ভলতেয়ার আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন—“স্বাধীন চিন্তাই সবচেয়ে বড় বিপ্লব।”

২০২৫ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত হয়েছেন ব্রাজিলের বেদান্ত প্রচারক আচার্য জোনাস মাসেত্তি। এই স্বীকৃতি শুধু একজন ব্যক্তির অর্জন নয়—এটি ভারতীয় দর্শনের আন্তর্জাতিক প্রসারের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন এক রুচিশীল ও বিদ্বান মানুষ। পশ্চিমী শিক্ষার প্রভাবে প্রতিপালন হলেও, তাঁর মনন ছিল গভীরভাবে দেশপ্রেমিক এবং সমাজ সচেতন।
One Response
সম্পাদকীয় বেশ ভালো।