
জাদুকরের মৃত্যু
আমার ছিল বাউল হওয়ার শখ,
আমার ছিল জাদু শেখার কথা,
আমার ছিল ঘুমিয়ে পড়ার মন,
নীল আকাশে জড়িয়ে নকশী কাঁথা
বৈশাখও গা ভর্তি বিষাদ মেখে এলো।
কত দিন হল এ মন
নিটোল মুগ্ধতার স্বাদ হাতড়ে বেড়াচ্ছে
অথচ
আকাশে বাতাসে নিরানন্দের আবরণ।
কাঁটা পড়েছে,ক্রমঃক্ষীণ সততার পথে
আত্মসাতের রথের চাকা চলছে দূর্ণিবার গতিতে, চোখে ধুলো ছড়িয়ে।
নষ্টমতি,ক্ষমতাগর্বী মানুষ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছে অন্যের দুর্ভোগ
গজগজ করছে,
মনে মনে ধোলাই হওয়া মগজেও
বুড়বুড়ি ওঠে ও মিলায়।
এখন দিনও বড়ো দীন,
অমাবস্যার আঁধারের বেড়া দেওয়া।
এমন টালমাটাল সময়ে একটা গোটা চাঁদ চাই
যার শরীর রাহু গ্রাসহীন।
দিনের আলোয় রৌদ্রস্নাত হতে মন চায়
অসূর্যম্পশ্যা জীবনের বন্দীত্বে ওষ্ঠাগত প্রাণ
কতদিন হলো কালমেঘে ঢাকা পড়েছে
কাঙ্ক্ষিত যাপনের প্রত্যাশা।
হতাশা যেন গেড়ে বসেছে আমৃত্যু সঙ্গী হয়ে,
স্বপ্নের বীজ গুলো শুকিয়ে খাক।
তবুও মনে হয়, সত্যিই মনে হয়
একদিন কালো মেঘ সরিয়ে সে আসবে
আঁধারের যাত্রীরা ঝলমলে আলোয় দানাপানি মুখে দিয়ে বলবে —
‘ মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়,
আড়ালে তার সূর্য হাসে’।

আমার ছিল বাউল হওয়ার শখ,
আমার ছিল জাদু শেখার কথা,
আমার ছিল ঘুমিয়ে পড়ার মন,
নীল আকাশে জড়িয়ে নকশী কাঁথা

হেমন্তের শস্যহীন ন্যাড়া মাঠ অপেক্ষায় থাকবে | বৃষ্টি জলে ধুয়ে কবিতার বীজ বপন করবে নবীন কবির দল | মুক্তক ছন্দে ভরে উঠবে খামার |

অবসন্ন বেলায় ঈশ্বরীর বাগানে, গা এলিয়ে পড়ে ছিল কামরাঙা রোদ, পোড়ো বাড়িটার উঠোন থেকে, উঠে এসে উড়নচণ্ডী হাওয়া দূরান্বয়ী ছায়া দিয়ে

আমি বসে আছি নিস্তরঙ্গ কলরবকূলে, মালতীলতায় এবার ফুল আসেনি, হাঁড়িতে মা ভবানী, উনুনে পুড়ছে অস্তিত্বের ব্যাকুলতা