সহজপাঠ পাঠচক্র শুধুই একটা পাঠচক্র নয়—এটা একটা চলমান গল্প, যেখানে তুমি আমন্ত্রণপ্রাপ্ত চরিত্র।

পাঠ প্রতিক্রিয়া: আর কোনোখানে by লীলা মজুমদার

বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বলতে ঠাকুর পরিবারের পরেই বোধহয় যে পরিবারের কথা মনে পড়ে তা রায় পরিবার। লীলা মজুমদার সেই বাড়ির মেয়ে। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ভাইয়ের মেয়ে। লীলা মজুমদারের লেখা একটি সরস ছন্দে চলে, কখনো কখনো মনে হয় তা যেন একটি ঝিরঝিরে নদী। সহজ, সরল, সুন্দর। অতএব তাঁর আত্মকথা যে পাহাড়ি ফুলের গুচ্ছের মতো সুন্দর হবে তাতে আর সন্দেহ কি! এটি লীলা মজুমদারের আরেকটি আত্মকথা ‘ পাকদণ্ডী ‘ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আট বছরের ছোটো ভাইয়ের মৃত্যু তাঁকে যে যন্ত্রণাদায়ক অনুভবের সম্মুখীন করেছিলো, এটি তারই ফলশ্রুতি। কিন্তু এই ১৯৬ পাতার বইটি এতোটাই এক নির্ভার ছন্দে প্রবাহিত, যে এটি হাতে তুলে নিলে শেষ না করে ওঠা চলে না কিছুতেই। বিখ্যাত রায়বাড়ির আনাচকানাচে বিচরণ করে অবশেষে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ান সেই মহীরুহ – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এটি যেন একটি বহমান ইতিহাস। কতো সহজ ছন্দে আমরা খুঁজে পাই সন্দেশ প্রকাশের গোড়ার কথা, ইউ রায় অ্যান্ড সন্স এর কথা। সুকুমার রায় একটি নুতন রূপে দেখা দেন আমাদের চোখে। এবং অবশ্যই শান্তিনিকেতন। রবীন্দ্রনাথ যে ব্যতিক্রমী শিক্ষাচেতনা আমাদের মননে জাগ্রত করতে চেয়েছিলেন তা যে কতখানি ফলপ্রসূ হতে পারতো তা লীলা মজুমদার কোনো শিক্ষা ব্যাবস্থার সমালোচনা না করেই আমাদের চোখে স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছেন। তাই এটি যেমন একটি নির্মেদ আত্মকথন তেমনই একটি যুগকথন বললেও ভূল বলা হয় না।

মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত, (রবীন্দ্র পুরস্কার -১৩৭৫)

Facebook
WhatsApp
Email
Print

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ওনার আরো কিছু লেখা

কবিতা
সুমন সিংহমহাপাত্র

বিদায়

আমার হয়ে শবেরা প্রতিমূহুর্তের নিকশআঁধারে প্রদীপ এক জ্বালানো নির্ভিক!বছর গড়িয়ে

Read More »
গল্প
সুমন সিংহমহাপাত্র

আণবিক গল্প

গোপালবাবু গোলগাল লোক। নিরীহ এবং ভদ্রলোক বলা যায়।সাথে লেখকও, ছোটগল্প

Read More »