
সম্পাদকীয় : জি. কে. চেস্টারটনকে জন্মদিনে শ্রদ্ধা
আজকের দিনে জন্মেছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের এক বর্ণময় চরিত্র—গিলবার্ট কিথ চেস্টারটন, যিনি ছিলেন একাধারে প্রাবন্ধিক, রম্যরচনাকার, ঔপন্যাসিক, কবি এবং ধারালো যুক্তিবিদ।
জন্ম: ৪ জুন ১৮৫৫
মৃত্যু: ২০ জুন ১৯৪৭
আজ, ৪ঠা জুন, আমরা স্মরণ করি বাংলা সাহিত্যের এক বিস্মৃতপ্রায় কিন্তু অমূল্য রত্ন—প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় (১৮৫৫–১৯৪৭)। বাংলা সাহিত্যের গোড়ার দিকে যাঁরা গোয়েন্দা কাহিনির বীজ বপন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৮৫৫ সালের ৪ঠা জুন, বর্তমান বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলায়, যা তখন ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্গত ছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা থেকে লেখক
প্রিয়নাথ কেবল একজন সাহিত্যিক নন, তিনি পেশাগতভাবে কলকাতা পুলিশের একজন গোয়েন্দা ছিলেন। তিনি ১৮৭৮ থেকে ১৯১১ সাল পর্যন্ত ৩৩ বছর ধরে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এই বাস্তব অভিজ্ঞতাই তাঁকে রচনা করাতে অনুপ্রাণিত করে এক অসাধারণ সংকলন—‘দারোগার দপ্তর’। এ গ্রন্থে তিনি বাস্তব পুলিশি অভিজ্ঞতার আলোকে রোমাঞ্চকর এবং প্রায়শই শিক্ষনীয় ঘটনা তুলে ধরেন।
‘দারোগার দপ্তর’: সাহিত্যের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজচিত্র
‘দারোগার দপ্তর’ শুধু একটি সাহিত্যগ্রন্থ নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল, যা উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে কলকাতার অপরাধ জগত, সমাজের রূপ, এবং পুলিশি তদন্তের প্রক্রিয়াকে জীবন্ত করে তোলে। এই রচনাগুলি পাঠককে একদিকে যেমন চমকে দেয়, তেমনি অন্যদিকে সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ভাবায়।
গোয়েন্দা সাহিত্যের অগ্রদূত
অনেকেই বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যের কথা বললে সরাসরি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বা সত্যজিৎ রায়ের কথাই ভাবেন। কিন্তু প্রিয়নাথ ছিলেন তাঁদের পথপ্রদর্শক। তাঁর কাজগুলো বাংলা সাহিত্যের গোয়েন্দা ধারার বীজ রোপণ করে। ‘দারোগার দপ্তর’ ছিল এমন এক সাহিত্যপ্রয়াস, যা ভারতীয় গোয়েন্দা সাহিত্যের ভিত্তি রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিস্মৃত এক প্রতিভা
দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলা সাহিত্যের মূলধারায় প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়ের নাম আজ তেমন উচ্চারিত হয় না। অথচ তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যাঁর লেখনীতে বাস্তবতা ও রোমাঞ্চ মিলেমিশে এক অনন্য রূপ পেয়েছিল। তিনি ছিলেন গোয়েন্দা চরিত্রের নির্মাতা, গল্পকার এবং একাধারে পুলিশি তদন্তের সামাজিক দলিলপ্রণেতাও।
আজকের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা
বর্তমানে, যখন অপরাধ, তদন্ত ও রহস্যভিত্তিক গল্প ও সিরিজ জনপ্রিয়তার শীর্ষে, তখন প্রিয়নাথের লেখা নতুন করে পাঠ ও মূল্যায়নের দাবি রাখে। তাঁর কাজগুলো আজও পাঠকদের রোমাঞ্চিত করতে পারে এবং ইতিহাসের এক বিশিষ্ট অধ্যায় উন্মোচন করতে পারে।
উপসংহার:
প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের এক নিঃশব্দ বিপ্লবী। ৪ঠা জুন তাঁর জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করে, আমাদের উচিত তাঁর সাহিত্যকর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া—যাতে বাংলা গোয়েন্দা সাহিত্যের প্রকৃত ইতিহাস আলোয় আসে।
নেট দুনিয়া তে অনেক খুঁজেও ওনার কোনো ছবি বা পোট্রেট পাওয়া গেলো না !

আজকের দিনে জন্মেছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের এক বর্ণময় চরিত্র—গিলবার্ট কিথ চেস্টারটন, যিনি ছিলেন একাধারে প্রাবন্ধিক, রম্যরচনাকার, ঔপন্যাসিক, কবি এবং ধারালো যুক্তিবিদ।

আজকের এই সময়ে, যখন প্রশ্ন করা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, ভলতেয়ার আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন—“স্বাধীন চিন্তাই সবচেয়ে বড় বিপ্লব।”

২০২৫ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত হয়েছেন ব্রাজিলের বেদান্ত প্রচারক আচার্য জোনাস মাসেত্তি। এই স্বীকৃতি শুধু একজন ব্যক্তির অর্জন নয়—এটি ভারতীয় দর্শনের আন্তর্জাতিক প্রসারের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন এক রুচিশীল ও বিদ্বান মানুষ। পশ্চিমী শিক্ষার প্রভাবে প্রতিপালন হলেও, তাঁর মনন ছিল গভীরভাবে দেশপ্রেমিক এবং সমাজ সচেতন।