
একটি অটিজম স্পেকট্রাম এ থাকা কিশোরীর মাধ্যমিক পরীক্ষা ও ডিপ্রেশন: প্রথম পর্ব
প্রথমেই বলি অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা একটি ফোঁটাও আমাদের সমাজে তৈরি হয়নি। বিশেষ শিশুর বাবা- মা ছাড়া আর কেউ এতটুকুও কোনোভাবেই সচেতন নয়।
ভোরাই রাগে তখন সেতারের ঝংকার,
পুবালি বাতাসে পরিপূর্ণ জীবনের জয়গান,
দিক থেকে দিগন্তে বিন্দু বিন্দু সিঞ্চিত জলকনার মতো ঝরে পড়ছে স্নেহ- মায়া- ভালোবাসা,
শোনা যায় অশ্রুতপূর্ব রাগিণীতে সেই পরম সংগীত,
পতত্রীর মধুর নিক্কণ প্রতিটি রক্তকণিকার ভেতর সঞ্চারিত করে
এক গভীর জীবনবোধ,
অবশেষে প্রাণ এলো ওই নিস্প্রভ নীরবতায়,
কন্ঠে মন্দ্রিত হলো মহাজাগরণের আকুতি,
উচ্চারিত হলো সমানুভূতির বার্তা,
আলোকিত এক সমাজ সৃষ্টির সার্থক ঘোষণা অনুরণন তুললো প্রকৃতির কোণে কোণে,
ডাক পাঠালো,
” কে কোথায় আছো, এসো এসো,
নতুন জীবন এসেছে আজ,
মহামিলনের পথে পাড়ি দিতে হবে,
আর কি দেরি সাজে?”
ভীড় করে জড়ো হলো একদল নির্বাক নর- নারী,
কারো মুখে ভয়,
কারোর দৃষ্টিতে হতাশা,
কেউ লাঞ্ছিত, রোগতাড়িত, লজ্জিত,
কারোর অস্তিত্ব বাঁধা পড়ে আছে সোনার শিকলে,
কেউ কেউ শঙ্কিত, সবকিছু ঠিক হবে তো?
আলোর স্পর্শে চোখ হঠাৎ ঝলসে গেলো তাদের,
হঠাৎ কন্ঠে এলো সুর,
হঠাৎই তারা একে অপরের বুক চিরে দেখতে পেল সব পাথরগুলো,
তারা একে অন্যের পাথর সরালো,
পাথর সরালো,
অবশেষে সবার হৃদয়ের অতল গভীর থেকে এক এক করে মন্দাকিনীর জন্ম হলো,
আস্তে আস্তে সেই অতল ডুবজলে এক একটি আলো মানুষের দেখা মিললো,
সব আলোময় দেহ হাতে হাত রেখে আকাশে চোখ পাতলো,
দেখতে দেখতে সব আলো একসময় আকাশ হয়ে গেলো,
সমুদ্র হয়ে গেলো,
তখনই পৃথিবীর বুকে ঝরে পড়লো অপার শান্তি,
অশেষ আনন্দ,
মায়া- মায়া রূপকথার মতো ভালোবাসা।।

প্রথমেই বলি অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা একটি ফোঁটাও আমাদের সমাজে তৈরি হয়নি। বিশেষ শিশুর বাবা- মা ছাড়া আর কেউ এতটুকুও কোনোভাবেই সচেতন নয়।

সমাজে বদল যদি আসেও তা হয়তো আমার সন্তান ভোগ করতে পারবে না। ওর তো জীবনের একটা অধ্যায় শেষ হয়ে গেলো। আস্তে আস্তে হয়তো পড়াশোনাটাই শেষ হয়ে যাবে।

স্যাভান্ট কোয়ালিটি কিন্তু সব অটিস্টিক শিশুর মধ্যে দেখা যায় না। আবার এমনও নয় যে স্যাভান্ট শিশুদের প্রতিবন্ধকতা খুব কম। তা কিন্তু একেবারেই নয়।

অটিজম একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। এবং আগেই বলেছি এখানে প্রতিটি শিশুই আলাদা। তাদের সমস্যা ও সমাধান এক নয়।