
আবর্ত
পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।
জানালার কাছে টেবিলে ছড়ানো আছে
বইপত্তর কাগজ কলম আর অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি।
অমল বিষাদে মনে মনে পাহাড় দেখি
আমার সাধের শব্দমালা সাধনার অন্বেষণে
মৌমাছিদের ঝাঁক পেরিয়ে পাহাড়ের উপত্যকায় গেছে
এখনো ফেরেনি।
বিকল স্নায়ুর স্মৃতিফলক নিয়ে পড়েছিল উপত্যকার ভূমি।
পূর্ণ চাঁদের আলোয় তার বুকে কেউ এসে
সাঁতার কাটবে–এই আশায় সে বসেছিল।
তাকে ঘিরে আর কোনো ঘটনা নেই
আর কোনো বাতায়ন নেই।
ঢেউ খেলানো পাহাড়ের তরঙ্গ ছড়িয়েছিল উপত্যকায়
শরীরী ঘরাণা নিয়ে।
তুমি সময়মতো পৌঁছে গেলে তার হাতছানিতে
সাঁতারে সাঁতারে এসে গেল পূর্ণিমার আলো
তুমি শিখে নিলে দীক্ষালব্ধ অব্যর্থ সন্তরণ।,
পাহাড়ের শীর্ষদেশে সুবেশ পথিক সচরাচর ভ্রমণে আসে না।
উপত্যকায় হরিণীরা পাহাড় তরঙ্গে গা ডুবিয়ে
জল পান করে সময়মতো পৌঁছে যায়
আশ্রমিক সন্নিহিত তরুশ্রেণীঘরে।
আমার শব্দমালা এখনো ফিরে আসেনি,তুমিও না।
অমল বিষাদে আমি ডুবসাঁতারের কৌশলধ্বনি শুনি
নিরালায় একান্তে।।

পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।

পায়ে পায়ে পথ চলা, তোমার সঙ্গে কথা বলা, ফুরোয় না ফুরোয় না একেবারেই । চলো যাই নীপবনে, আপনমনে প্রত্নলিপির আবক্ষস্নান

একরাশ ধুলোর ঘূর্ণি ঘুরপাক দিয়ে, তছনছ করে দিচ্ছে ঘর সংসারের প্রাত্যহিক ভাষা, ভেঙে দিচ্ছে সম্ভ্রমের ভালোবাসা, আর দৈনন্দিন নিরাপত্তা।