
আবর্ত
পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।
চারদিকে বড্ড কোলাহল
আমাদের সীমানাটা বড্ড কাপুরুষ
এমন একটা সীমানায় আমরা দাঁড়িয়ে
যেখানে কথা বলা প্রায় নিষিদ্ধ।
তাই তোমাকে খুঁজে বেড়াই।
শুনেছি তোমার দুটি হাতে
শূন্যতা ছাড়া আর কিছুই নেই
হয়তো কখনো ছিল দানসাগরের ঠিকরানো আলো
দাগটুকু মুছে গেছে
শূন্যতার মগ্ন অবসর স্বেচ্ছাবৃত আবাসনে
মনে মনে গড়ে তোলে নির্বাক প্রহর।
আগন্তুক অভিমান নারায়ণ শিলার মতো পড়ে থাকে
প্রাণহীন প্রয়োজনে তুলে নিয়ে পরিচর্যা করি
লোকচক্ষে সমাজসংসারে
কার কী এসে যায় তাতে!
সবাই তো চাইবে যাবতীয় কাঞ্চনসুকৃতি
বিলিয়ে দাও দরাজ হাতে
কিন্তু এখন তোমার হাত তো শূন্য
রীতিসিদ্ধ প্রমাণ থাক বা না থাক
কোনো শূন্যতা তোমাকে মানায় না একেবারেই।
তাই যাবতীয় অবরোধ ভেঙে দিয়ে
তোমার জন্য বসে আছে
অগ্রগণ্য সমাদরের ফুল এবং চন্দন
কোলাহলে কোলাহলে অস্থির কালচক্র
তোমাকেই ডাকে শূন্যতা মুছে দেবার জন্য। ।

পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।

পায়ে পায়ে পথ চলা, তোমার সঙ্গে কথা বলা, ফুরোয় না ফুরোয় না একেবারেই । চলো যাই নীপবনে, আপনমনে প্রত্নলিপির আবক্ষস্নান

একরাশ ধুলোর ঘূর্ণি ঘুরপাক দিয়ে, তছনছ করে দিচ্ছে ঘর সংসারের প্রাত্যহিক ভাষা, ভেঙে দিচ্ছে সম্ভ্রমের ভালোবাসা, আর দৈনন্দিন নিরাপত্তা।