
আবর্ত
পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।
একরাশ ধুলোর ঘূর্ণি ঘুরপাক দিয়ে
তছনছ করে দিচ্ছে ঘর সংসারের প্রাত্যহিক ভাষা
ভেঙে দিচ্ছে সম্ভ্রমের ভালোবাসা
আর দৈনন্দিন নিরাপত্তা।
তৈরি হয়ে যাচ্ছে একটা আবছা সুড়ঙ্গ
তার ভেতর দিয়ে চলেছি।
কোনো অনুভূতি নেই
অন্ধকার সিঁড়িতে পা রেখে
ক্রমশঃ নিচের দিকে নেমে যাচ্ছি
স্যাঁতসেঁতে সিঁড়ি শ্যওলামাখা
বিন্দুমাত্র রেখা নেই কোনো আলোর।
এই সুড়ঙ্গ এই অন্ধকার কোথায় নিয়ে যাচ্ছে !
কে ফের ডেকে নেবে বসন্তবাগানে
কে ফের নিয়ে যাবে অরুণ আলোর টিলায়?
চলো, ফিরে যাই
বৃক্ষতলে ফের।
ঘাসের বুকে আলোর সংসার
নতশির আবহমণ্ডল।
মাটি থেকে তুলে নেবো ভালোবাসার ভাষা
আর গেরস্থালির ঘরকন্না।
আলপথে রাখা আছে নিরক্ষর কৃষকের
সাক্ষর স্বপ্নের বর্ণপরিচয়
কৃষকরমণী আঁচলভরে নিয়ে যায় ভালোবাসার
সবুজ সম্ভার।
এই মাটির ভেতরেই আমরা একদিন
রোপণ করেছিলাম স্বপ্ন সাধ খেলাধূলা
সূর্যোদয়ের টিলা
কেমন করে তা হারিয়ে গেল
খেয়াল হলো না।
চলো,আবার ফিরে যাই সেই বৃক্ষমূলে
যেমন করে প্রবাসী ফেরে ঘরে
পাখির ডানা ফিরে আসে
ফেলে যাওয়া নীড়ে।
নতুন করে চিনে নেবো
কন্দ মূল মায়ের আঁচল
আলোছায়া তৃণমায়া
পতঙ্গনিনাদ আর আনন্দের ফুল।
ডাক দেবে প্রিয়সঙ্গী পুকুরের জল
পাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা তরুদের ভাষা।
চিনে নেবো
ঠিক চিনে নেবো দীক্ষালব্ধ অব্যর্থ ভালোবাসা। ।

পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।

পায়ে পায়ে পথ চলা, তোমার সঙ্গে কথা বলা, ফুরোয় না ফুরোয় না একেবারেই । চলো যাই নীপবনে, আপনমনে প্রত্নলিপির আবক্ষস্নান

একরাশ ধুলোর ঘূর্ণি ঘুরপাক দিয়ে, তছনছ করে দিচ্ছে ঘর সংসারের প্রাত্যহিক ভাষা, ভেঙে দিচ্ছে সম্ভ্রমের ভালোবাসা, আর দৈনন্দিন নিরাপত্তা।