
আবর্ত
পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।
মাটিতে নেমেছে ধ্বস
দেয়ালে কাঁপছে করাল ছায়া
বাসস্থান ঠাঁই খোঁজে পর্যুদস্ত বিকেলের মেঘে
সকালের মৌন শিকড়ে বৌদ্ধ সঙ্ঘ খুঁজে ফেরে
খেরোবাঁধা প্রাচীন লিপির ভিত।
নড়ে যাচ্ছে বাসস্থানের ভূমি
সরে যাচ্ছে যাপনচিত্রের সহজ পাঠ।
এক অকাল পাণ্ডুরতায়
বিবর্ণ বর্ণমালা দীর্ঘশ্বাস ফেলছে।
রাঙা পথ নেই কাছেপিঠে
শাল পলাশে আর নিমন্ত্রণ নেই
হাওয়ায় হাওয়ায় ভাসে না আর
গরম ভাতের ব্যস্ত গন্ধ।
কোনদিকে যাবি মন?
কোনখানে?
সকাল সন্ধ্যা পা ফেলছে
অবেলার আঁধার।
যাচ্ছি–যাবো
কোথায় যাবি মন?
চলার পথে আর পথ নেই
জীবন জুড়ে আর সুর নেই
বাতাসে আর হাওয়া নেই।
এতো আসা এতো যাওয়া
এতো কথা এতো গান
এতো সখ্য এতো আলাপ
কোথায় গেল তার বিস্তার?
সব উথাল পাথাল কান্নাভেজা দীর্ঘশ্বাসে।
সব আছে অথচ কিছুই নেই
কী পাবি মন?
রাখালরাজার বৃন্দাবন?
আকাশটাও হয়রান হয় নক্ষত্রসভায়
ছড়িয়ে থাকতে থাকতে কখন যে
সে নিজেকে হারিয়ে বসে আছে
সেটাই জানে না ।।

পাতাল থেকে উঠে আসছে, অন্ধকারের নারকীয় আবর্ত। আমার ঘরে এখন মৃতপ্রায় সকাল, অনিচ্ছুক সংলাপে লিখে যাচ্ছে দগ্ধ তরুর আলেখ্য।

পায়ে পায়ে পথ চলা, তোমার সঙ্গে কথা বলা, ফুরোয় না ফুরোয় না একেবারেই । চলো যাই নীপবনে, আপনমনে প্রত্নলিপির আবক্ষস্নান

একরাশ ধুলোর ঘূর্ণি ঘুরপাক দিয়ে, তছনছ করে দিচ্ছে ঘর সংসারের প্রাত্যহিক ভাষা, ভেঙে দিচ্ছে সম্ভ্রমের ভালোবাসা, আর দৈনন্দিন নিরাপত্তা।