
একটি অটিজম স্পেকট্রাম এ থাকা কিশোরীর মাধ্যমিক পরীক্ষা ও ডিপ্রেশন: প্রথম পর্ব
প্রথমেই বলি অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা একটি ফোঁটাও আমাদের সমাজে তৈরি হয়নি। বিশেষ শিশুর বাবা- মা ছাড়া আর কেউ এতটুকুও কোনোভাবেই সচেতন নয়।
প্রথমেই বলি অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা একটি ফোঁটাও আমাদের সমাজে তৈরি হয়নি। বিশেষ শিশুর বাবা- মা ছাড়া আর কেউ এতটুকুও কোনোভাবেই সচেতন নয়। সুতরাং অনেকেই যাঁরা ওর কাছে এসেছেন, হয়তো কেউ অসুস্থ ফীল করতে পারেন। কেউ কেউ পাগল ভাবতে পারেন । আরও কতো কি! যথারীতি পরীক্ষা চলাকালীন ওর মেল্টডাউন হয়েছে যা দেখে অনেকেরই হয়তো মনে হতে পারে ও খুব বেশি ডিজেবল। এবং আমি ডিপ্রেশড হয়েছি এবং মনে হয়েছে যেন হেরে গেছি। ভাবতে ভাবতে কেঁদেছি। প্রতিদিন পরীক্ষার আগে নতুন করে বুস্ট আপ করেছি। প্রতিদিন ও অস্থির হয়েছে। একসময় ভেবেছি ও বোধহয় আর পরীক্ষা দিতে পারবে না। খুব পছন্দের বিষয় বাংলাতে মুখস্থ ছিলো এমন প্রশ্ন লেখেনি কারণ ওর কাছে পরীক্ষা জিনিসটার কোনো গুরুত্ব নেই। কিন্তু বাড়িতে এসে সেটা না লেখার জন্য কেঁদেছে নীরবে। অনেক যন্ত্রণা সহ্য করেছে এবং যখন মানসিক চাপ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেছে তখন কেঁদেছে ও রেগে গেছে। তারপরেও পরীক্ষার পুরো সময়টা ওখানে কাটিয়ে এসেছে। পরীক্ষা দিয়েছে। একদম একা একা। একা একা স্কুলের গেট থেকে রুম পর্যন্ত বোর্ড, পেনসিল বক্স, অ্যাডমিট কার্ড ও জলের বোতল নিয়ে অনেকটা পথ টালমাটাল পায়ে হেঁটে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে নিজের সীটে বসেছে। হয়তো তখন ওর আমার ওপর তীব্র অভিমান হয়েছে। খুব কষ্ট হয়েছে। ওর পায়ের শিরাতে একটা টান আছে। যার জন্য ওর অনেক কিছুতেই কষ্ট হয়। তবুও এতোটুকুও অভিযোগ না করে রোজ গেছে। জানিনা ও কেমন পরীক্ষা দিয়েছে। মাধ্যমিকের প্রশ্নগুলো আমি আজও দেখিনি। জানি না ও কেমন রেজাল্ট করবে! সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়ও। কিন্তু ও তবুও জিতে গেছে। যে মাধ্যমিক এ প্রথম হবে তার থেকে অনেক বেশি মার্কস নিয়ে ও পাশ করেছে। কারণ ও সাতদিন সম্পূর্ণ অচেনা পরিবেশে অচেনা মানুষের কাছে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। যেটা করতে গিয়ে ওর সমস্ত সত্ত্বা ভেঙেচুরে গেছে। চরম বিষাদ গ্রাস করেছে।
( To be continued)

প্রথমেই বলি অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা একটি ফোঁটাও আমাদের সমাজে তৈরি হয়নি। বিশেষ শিশুর বাবা- মা ছাড়া আর কেউ এতটুকুও কোনোভাবেই সচেতন নয়।

সমাজে বদল যদি আসেও তা হয়তো আমার সন্তান ভোগ করতে পারবে না। ওর তো জীবনের একটা অধ্যায় শেষ হয়ে গেলো। আস্তে আস্তে হয়তো পড়াশোনাটাই শেষ হয়ে যাবে।

স্যাভান্ট কোয়ালিটি কিন্তু সব অটিস্টিক শিশুর মধ্যে দেখা যায় না। আবার এমনও নয় যে স্যাভান্ট শিশুদের প্রতিবন্ধকতা খুব কম। তা কিন্তু একেবারেই নয়।

অটিজম একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। এবং আগেই বলেছি এখানে প্রতিটি শিশুই আলাদা। তাদের সমস্যা ও সমাধান এক নয়।